রাত্রি থেকে কিছুতেই ধরে রাখা যাচ্ছে না রাহুলের মাকে! অভিনেতার পরিবারে ফের বিপদ, কি জানালেন চিকিৎসক

রাহুল

বিজয়গড়ের অনন্যা অ্যাপার্টমেন্টের ঠিকানাটায় আর হয়ত ফিরবেন না বাবিন। গত কয়েক ৪৮ ঘন্টায় বদলে গিয়েছে গোটা পাড়ার পরিবেশ। ছেলে রাহুলের এই অকালে চলে যাওয়াটা যেন কিছুতেই মানতে পারছেন না অভিনেতার মা। কেমন আছেন রাহুলের মা? রবিবার রাতে প্রথমে প্রিয়াঙ্কাই পৌঁছোন রাহুলের মায়ের কাছে। তার পরে একে একে জড়ো হন অভিনেতার বন্ধুরা। অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত সারা ক্ষণ ছিলেন অভিনেতার মায়ের সঙ্গে।

অভিনেত্রী চৈতি ঘোষাল বললেন, “সন্তানহারা মা কি আর ঠিক থাকে?” রবিবার রাত থেকে শুইয়ে রাখা যাচ্ছে না তাঁকে। বার বার খুঁজছেন ছেলে বাবিনকে। দেবলীনা বলেন, “চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ দেওয়া হয়েছে। তাতেও ঘুমোচ্ছেন না, খাচ্ছেন না রাহুলের মা। “আমার বাবিন কোথায় ? ও কি আর ফিরবে না”,রাহুলের অকাল বিদায়ে আকুল মা। ওষুধেও ঘুম পাড়ানো যাচ্ছে না।

ঘুমের ওষুধ দেওয়া হলেও তাতে কোনও কাজ হচ্ছে না। দুচোখের পাতা এক করতে পারছেননা কিছুতেই,এমনকি জলও স্পর্শ করছেন না। বার বার প্রলাপের মতো বলছেন “আমার বাবিন  কোথায় গেলো”। রাহুলের দাদা থাকেন আয়ারল্যান্ডে। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। বুধবার শহরে ফিরবেন তিনি। দাদা আসার পর যদি কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে রাহুলের মাকে কান্না করে করে বলতে শোনা যায়, ‘আমার টাকা পয়সা লাগবে না তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও। আমার ছেলেকে আমার দু হাতে তুলে দাও আমি জড়িয়ে ধরব।’

এক দিকে যেমন রাহুলের মাকে সামলানো যাচ্ছে না, অন্য দিকে একেবারে চুপ করে গিয়েছে রাহুলের ১৩ বছরের ছেলে সহজ। অনিন্দিতা রায়চৌধুরী বললেন, “একটা শব্দও মুখ থেকে বার করেনি সহজ। পুরো চুপ করে গিয়েছে। আর সবটা একাহাতে সামলাচ্ছে প্রিয়াঙ্কা। ওকে সত্যিই কুর্নিশ জানাই।”

সোমবার দুপুর ৩টে নাগাদ তমলুক মহকুমা হাসপাতাল থেকে কলকাতা নিয়ে আসা হয় রাহুলের মরদেহ। থিকথিকে ভিড়ের মাঝে সবার একটাই প্রশ্ন ছিল, কেমন আছেন রাহুলের মা? ছেলে সহজ কি বুঝতে পারছে কী হয়েছে? অদ্ভুত এক পরিস্থিতি। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে যন্ত্রের মতো অবাক চোখে দেখা গেল ১৩ বছরের সহজকে। বাবার মুখাগ্নি করেছে সে। ছেলে আর মায়ের ভার রইল এ বার থেকে শুধুই প্রিয়াঙ্কার হাতে!