‘আধ ঘণ্টা ধরে… ওই দিনটার কথা আমি ভুলতে পারিনি… আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব’, সায়কের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ স্যান্ডির

সায়ক চক্রবর্তী

গো-মাংস বিতর্কের পর থেকে একের পর এক অভিযোগ সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। ব্লগে সায়কের ভালো মানুষ হওয়ার পিছনে যে কতটা জঘন্য মানসিকতা লুকিয়ে আছে সেটাই উঠে আসছে বারবার।

কয়েকদিন আগেই লেখিকা লীনা গাঙ্গুলির ছেলে অর্ক তার পোস্টে নাম না উল্লেখ করে দাবি জানান, সায়ক এক শিশুশিল্পীকে যৌন হেনস্থা করেছিল। তা জানাজানি হতে, ক্ষমাও চেয়েছিলেন তিনি।

ফের সামনে এলো চাঞ্চপ্ল্যকর ঘটনা। সায়কের বিরুদ্ধে এবার যৌন হেনস্থা্র অভিযোগ জানালেন জনপ্রিয় ব্লগার স্যান্ডি সাহা। ঠিক ঘটেছিল স্যান্ডির সাথে?

বছর চার আগের ঘটনা। স্যান্ডির বিস্ফোরক দাবি, ‘ও যেটা করেছে, আমি সমর্থন করিনি। ও এতদিন আমার ভালো বন্ধু ছিল। বন্ধু বলব না, আমাদের মধ্যে অনেক ঝগড়া-ঝাটিও হয়েছে। যাই হোক, আমি একটা রোস্টিং ভিডিয়ো করেছিলাম। কারণ আমি সমর্থন করিনি ঘটনাটা। আর এই কারণে ও আমায় ব্লক করে দিয়েছে। এর আগেও একবার ব্লক করা হয়েছিল, সেবার আমি ব্লক করেছিলাম। এটা দ্বিতীয়বার।’, বলতে শোনা যায় স্যান্ডিকে।

স্যান্ডি সাহা বলেন, ‘প্রথমবার যে ব্লকটা করেছিলাম, সেটার কারণ খুব ব্যক্তিগত। তা নিয়ে আমি কখনো কোথাও কথা বলিনি। আজ আমি সত্যিটা বলেই দিতে চাইছি, যেহেতু তোমরা (মিডিয়া) আছো। আজ থেকে ৩-৪ বছর আগে ওর বাড়িতে গিয়েছিলাম, শ্যুটিং করতে একটা ভিডিয়ো। আর শ্যুটিংয়ের পর ও আমাকে সেক্সুয়ালি হ্যারাস করেছিল, আমাকে যৌন হেনস্থা করেছিল, সেটার পরে আমি ওকে ব্লক করে দিয়েছিলাম।

এই ঘটনাটা কখনো বলিনি। আমি তখন হয়তো লাইভেও আসতে পারতাম। কিন্তু সেই মুহূর্তে স্বীকার করিনি, কারণ ভেবেছিলাম ও হয়তো নেশা করে ভুল করে ফেলেছে। কিন্তু এখন যখন সব সত্যিগুলো সামনে আসছে, আমার মনে হল বলে দেওয়াটা দরকার। সেই ট্রমাটিক দিনটার কথা আমি এখনও ভুলতে পারিনি, আমাকে হন্ট করে। এরপর অনেকবার ক্ষমা চেয়েছিল আমার কাছে। এখন আবার আমাকে ব্লক করেছে, যেহেতু আমি ওকে নিয়ে মজা করেছি।’

তাহলে এতদিন চুপ ছিলেন কেন স্যান্ডি? আর এখনই বা হঠাৎ কেন মুখ খুললেন? স্যান্ডি জানান, ‘তখন কোনোরকম স্টেপ আমি নিতে পারিনি, কারণ আমিও খুব নেশাতে ছিলাম, এবং রীতিমতো আমার ফায়দা উঠিয়েছে বলতে গেলে ও। আমি একটু ভয়ও পেয়ে গিয়েছিলাম, ওর যেহেতু অনেক চেনাজানা আছে। লোকে হয়তো সেই সময় আমার কথা বিশ্বাসও করত না, কারণ ওর একটা সো কলড ‘গুড ইমেজ’ ছিল টিভির কারণে।

আর আমাকে তো কেউ সিরিয়াসলি নেয় না, আমি মজার মজার ভিডিয়ো করি। তাই আমি যদি তখন বলতাম, লোক আমাকে মিথ্যেবাদি বলত, আর এখন তো শোনা যাচ্ছে ও নাকি কোন শিশুশিল্পীকে যৌন হেনস্থা করেছিল। তবে আমি যেহেতু নিশ্চিত জানি না, তাই মন্তব্য করব না। তবে ও আমাকে করেছিল। পুরো আধঘণ্টা ধরে রীতিমতো অত্যাচার করেছিল। এই ঘটনাটা আমি আজকে বললাম। এরপর আমি এটা নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতেও বাধ্য হব।

কারণ নেশার ঘোরে করেছে, আমি স্ট্রং, ওই ট্রমাটা হয়তো কাটিয়ে উঠতে পারব। কিন্তু আমাকে ওটা এখনও হন্ট করে। এরপর কয়েকদিন আমি রীতিমতো কথা বলতে পারিনি। এরপর যখন শুনলাম ও একটা শিশুশিল্পীর সঙ্গেও এরকম করেছে, আমার মনে হল, এটা ঠিক নয়। আমার প্রতিবাদ করা উচিত। না হলে আরও অনেক শিশুশিল্পী, অনেক অসহায় মানুষের সঙ্গে এই অত্যাচার হতে পারে। এখন প্রতিবাদ যদি না করি, তাহলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।’