টেলিভিশন জগতে দৌপদী চরিত্রে রাতারাতি জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। এরপর অভিনেত্রীকে একাধিক সিনেমা ও সিরিয়ালে দেখা গেলেও তিনি আচমকাই উধাও হয়ে যান এবং রাজনীতিতে নিজের নাম লেখান। তবে অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন কোনও সিনেমার চেয়ে কম কিছু নয়।
ইটাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুপা জানিয়েছিলেন তার ব্যক্তিগত জীবন কম যন্ত্রণার নয়। ১৯৯২ সালে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ধ্রুব মুখোপাধ্যায়কে বিয়ে করেন অভিনেত্রী। কিন্তু বিয়ের পর ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে সম্পর্কের সমীকরণ।
সুখের হয়নি বিয়ে। শত চেষ্টা করেও তিনি তা বাঁচাতে পারেননি। অবসাদ গ্রাস করেছিল, শেষ করতে চেয়েছিলেন নিজেকে। রূপা বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয়, একজন পুরুষের পক্ষে এক সেলিব্রেটিকে তাঁর স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করাটা খুবই কঠিন। এটৈ মেনে নেওয়ার জন্য একজনকে অত্যন্ত খোলা মনের মানুষ হতে হবে। আমি কোনওদিন সকাল ৯টার আগে কিংবা রাত ১০টার পরে শিডিউল নিইনি। শ্যুট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেকআপ না তুলেই বাড়ি চলে আসতাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন মেয়ের পক্ষে তাঁর স্বামীকে খুশি রাখার জন্য যা যা করা সম্ভব আমি সবই করেছি। কলকাতায় ধ্রুবকে নিয় ঘর করার জন্য অভিনয়ও ছেড়ে দিয়েছিলাম। এত কিছু করেও বিয়েটা বাঁচাতে পারিনি।’
রূপার কথায় তিনি বিয়ে টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। একবার নয়, চারবার কাজ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু লাভ হয়নি। তার স্বামী ধ্রুব বদলাননি।
অভিনেত্রী আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আমি একবার নয় তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম। আমার ছেলের জন্মের আগে একবার, পরে দুবার। কোনওবারই সফল হইনি। যদিও আমি মরতেই চেয়েছিলাম।’শেষমেষ আর সহ্য করতে না পেরে রূপা ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে ছেলে আকাশকে নিয়ে একাই থাকেন অভিনেত্রী।

