টেলিভিশনেরর পর্দার বাইরে থেকেও যাদের কন্ঠ, লেখা মানুষের মনে আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছে তেমনই এক পরিচিত নাম রিনি বিশ্বাস। সমসাময়িক আবৃত্তির জগতে এক উজ্জ্বল ও জনপ্রিয় নাম। ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়, সঞ্চালনা, লেখালেখি- সব ক্ষেত্রেই নিজের পরিচয় গড়েছেন।
তবে তার পেশাদারী সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে কঠিন সংগ্রামের গল্প। সিঙ্গেল মাদার হিসেবে সন্তানকে বড় করে তোলার যাত্রায় ব্যক্তিগত বহু ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে।
এছাড়াও তার জীবনে অনেক কঠিন সময় এসেছে। রিনি এক পড কাস্ট শোতে এসে জানিয়েছেন তার সাথে ঘটে যাওয়া এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা।
একদিকে ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, অন্যদিকে ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে যখন তিনি মানসিক অবসাদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেইসময় বাচিক শিল্পী হিসেবে তার কাছে তার কণ্ঠই ছিল সব, তাই গলার সামান্য সমস্যাতেই এক পরিচিত ব্যক্তির পরামর্শে তিনি গলার ইউএসজি করাতে গিয়েছিলেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল যে তাঁর গলায় ‘নোডুল’ হয়েছে, যা থেকে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের আশঙ্কা থাকতে পারে। এই আশঙ্কার কথা শুনে তিনি কলকাতার এক নামী হাসপাতালে যান। পরীক্ষার রিপোর্ট আসতেই স্পষ্ট হয় গলায় টিউমার হয়েছে। যখন চিকিৎসকরা তাকে জানান যে, অপারেশনের পর তার কণ্ঠস্বর চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। তখন রিনির পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছিল।
একজন বাচিক শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় অঘটন আর কিছু হতে পারে না। রিনি জানান, সেই সময় তিনি ভয়ে কাঁপছিলেন। মৃত্যুভয়ের চেয়েও তাঁর কাছে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর কণ্ঠহীন ভবিষ্যৎ এবং তাঁর সন্তানের কথা। অবশেষে সফল হয় রিনির অপরেশন। দুশ্চিন্তা কাটিয়ে আজ সম্পুর্ন সুস্থ রিনি। তবে অতীতের সেই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তাকে শিখিয়েছিল কীভাবে শেষ পর্যন্ত লড়তে হয়।

