
বাংলা ছবির স্বর্ণযুগে মহুয়া রায়চৌধুরী’র নাম আজও জ্বলজ্বল করছে। তবে বাস্তবিক জীবন সমস্যার মধ্যে দিয়েই কেটেছে অভিনেত্রীর জীবন। সেই সময় তার পাশে ছিলেন তার প্রাণের বান্ধবী রত্না ঘোষাল। তিনিও চলচিত্র জগতের একজন নামকরা অভিনেত্রী।
এককালে মহুয়া দেবীর অত্যন্ত কাছের মানুষ ছিলেন রত্না ঘোষাল। তবে মহুয়াদেবীকে নিয়ে রত্না ঘোষালের দেওয়া সাক্ষাৎকার নিয়ে ইতিমধ্যেই তুমুল চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। মহুয়াদেবীর সম্পর্কে বিস্ফোরক দাবি রত্নাদেবীর।
মৃত বান্ধবী প্রসঙ্গে রত্না ঘোষাল বলেন, “মৌ খুব মদ খেতে পছন্দ করত। আর ওর বাচ্চাটাকেও খাওয়াতো। গোলাও (মহুয়া দেবীর ছেলে) চুপচাপ বসে থাকতো। গুলুগুলু ছিল বলে ওর নাম ছিল গোলা। বাবা মা খাচ্ছে আর সেও চুপ করে বসে আছে। তখন ওর বয়স হবে দুই থেকে আড়াই বছর। আমি বললাম বাচ্চাটাকে খাওয়াচ্চিস কেন ? মহুয়া বলত, কী মুশকিল! ওর বাবা, মা মদ খায়, আর ও খাবে না? গোলা নিজেও চুপটি করে বসে থাকত। ওর একটাই দোষ ছিল ও খুব মদ খেতো। খোলা মনের মানুষ ছিল ও। ”
রত্নাদেবীর কথা অনুযায়ী পারিবারির চাপে, অভিনয়ে সাফল্যের বাইরে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন মহুয়া। তবে বরাবরই পাশে ছিলেন তার স্বামী তিলক চক্রবর্তী। মহুয়া রায়চৌধুরী ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম, মহুয়ার রোজগারেই সংসার চলত তাদের। তাই তার বাবা চাননি তার বিয়ে দিতে। এই প্রসঙ্গে রত্নাদেবী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘মৌ নিজেই বলেছিল, ওর বিয়ে দেওয়া হবে না। কারণ ও তো পরিবারের সোনার ডিম পাড়া হাঁস!’
মহুয়ার অকাল প্রয়াণে আজও শোকাহত রত্না ঘোষাল। সমাজের প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে নিজের সুখের কথা ভেবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও বেশিদিন আগলে রাখতে পারেননি তার সংসার, হঠাৎই মৃত্যু ঘটে মহুয়ার।
