‘প্রচন্ড মারধর করত প্রবাহ…ওরা আমার মেয়েকে মেরে ফেলতে… আমাকে ভিখিরির বাচ্চা, মূর্খ বলে অপমান করত”, বিস্ফোরক দাবি জানালেন দেবলীনার মা

দেবলীনা নন্দী

গত কয়েক ঘন্টায় গায়িকা দেবলীনা নন্দীর আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকেই গায়িকাকে ঘিরে উঠে এসেছে নানারকম চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেবলীনা হাসিমুখের পিছনে যে যে ভয়ংকর মানসিক চাপ আর যন্ত্রণা জমে ছিল তার জেরেই গায়িকার আজ এই পরিণতি।

সম্প্রতি দেবলীনার দিদি শর্মিষ্ঠা মুখ বোনকে নিয়ে মুখ খোলার পর এবার আরও কিছু অজানা কথা জানালেন দেবলীনার মা। দেবলিনার মায়ের দাবি, বিয়ের আগে মেয়ের গান বাজনা ও অনুষ্ঠান করার বিষয়টি শ্বশুরবাড়িতে মেনে নিলেও বিয়ের পর থেকেই পরিস্থিতি বদলায়। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা থেকে শুরু করে মায়ের সঙ্গে কোথাও যাতায়াত নিয়েও একের পর এক আপত্তি উঠতে থাকে, যা দেবলীনার মনে গভীর আঘাত দেয়।

দেবলীনার মা বলেন, “আমার মেয়ে সবসময়েই চেয়েছে দুই পরিবারকে নিয়ে থাকবে। বিয়ের আগেই শ্বশুরবাড়িতে আমার মেয়ে বলেছিল যে প্রথম থেকেই মা আমার গান-বাজনার, অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। আগামীতেও যুক্ত থাকবেন। তখন সব মেনে নিয়েছিল। বিয়ের পরেই দাবি করে পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখা যাবে না। আমার স্বামী বহুদিন ধরেই অসুস্থ। তাই ওঁকে সবজায়গায় জড়াই না। আমিই দেবলীনার পাশে থাকি। বিয়ের পরেই বর ও শ্বশুরবাড়ির দাবি, মা সব জায়গায় ওর সঙ্গে যেতে পারবে না। এদিকে দেবলীনা মনে করে যে আমি ওর জন্য লাকি। তাই সবজায়গায় আমাকে নিয়ে যায়। ও চাইত, শ্বশুরবাড়ির লোকেরাও যাক। আমি জানি না, কেন ওরা আমায় পছন্দ করে না।”

শুধু দেবলীনা নয়, তার মাকেও নানাভাবে অপমান ও কটূক্তির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, শিক্ষা, চেহারা এমনকি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কটু মন্তব্য করা হত।

দেবলীনা নন্দী

দেবলীনার মা আরও বলেন, “আমি কক্ষনো চাইনি, আমার মেয়ের সংসার ভাঙুক। কোনও মা চাইবে? সবসময় আমাকে কেন্দ্র করে মেয়েকে উল্টোপাল্টা কথা বলবে। আমার ডানহাতের আঙুলে চোট আছে, তাই আমি মেসেজ করতে পারিনা। ওরা সবসময় বলে, আমি নাকি অশিক্ষিত, আমি দেখতে বাজে, আমি মুর্খ। ছোটবেলায় আমি মাকে হারিয়েছি, অনেক কষ্টে বড় হয়েছি। আমি বেশি লেখাপড়া করতে পারিনি, এটা ঠিক, কিন্তু আমি অসভ্য় নই। তাহলে আর আমি মেয়েকে নিয়ে এতদূর এগোতে পারতাম না”।

দেবলীনার মায়ের অভিযোগ, মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি দেবলীনার গায়ে হাত পর্যন্ত তুলত তার স্বামী প্রবাহ। কাজের সূত্রে বাইরে যাওয়া, দেরিতে ফেরা সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন তোলা হত। কয়েকবার বাড়ি ছাড়তেও বাধ্য করা হয় দেবলিনাকে।

কাঁদতে কাঁদতে দেবলীনার মা বলেন, “ওকে প্রচুর মারধর করত, তাও আমি সংসার ভাঙতে বলিনি। ওকে বোঝাতাম, ধৈর্য্য ধরতে, ভালোবেসে বিয়ে করেছিল প্রবাহকে। তাও আমি চেয়েছিলাম স্টেপ নিতে, কিন্তু আমার মেয়ে কোনওদিন আমায় পুলিসে যেতে দেয়নি। আমার মেয়ে বলত, সবাই ভাবে ইন্ডাস্ট্রির মেয়েরা খারাপ হয়। সংসার ছেড়ে আসলে, সবাই আমাকেই খারাপ ভাববে, বলবে আমিই সংসার করতে পারিনি। সমাজ কী বলবে, এই ভয়ে ও বেরিয়ে আসতে পারেনি”।

দেবলীনার মা  জানান, “বিশ্বাস করুন, একদিন ফোন না করলে, মেসেজ না করলে মনে হত, এই বুঝি আমার মেয়েকে মেরে ফেলে দিয়েছে ওরা। মেয়েকে মেরে ফেলেছে বলেই হয়তো মেয়ে রিপ্লাই করছে না। ভয়েস নোট পাঠাতাম, ‘কীরে ঠিক আছিস তো? রিপ্লাই করে শুধু বলিস যে সুস্থ আছিস’ কোনওদিন মেয়েকে বলিনি যে আমার কাছে এসে থাক। প্রবাহ যদি বলত, তুমি আমার পায়ে থাকো, মেয়েকে ভালো রাখব, আমি তাই মেনে নিতাম। আমি সেধে সেধে কথা বলতাম প্রবাহর সঙ্গে। অষ্টমঙ্গলার পর একদিনও আসেনি”, কান্নায় গলা বুজে যায় দেবলীনার মায়ের।

দেবলীনা নন্দী

এই মুহুর্তে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে গায়িকার। দেবলীনার মা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেবে দেবলীনা, তা সম্পূর্ণ তাঁর নিজের উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত গায়িকার কোন খোঁজ খবরই নাকি নেয়নি তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা।