হুবহু গল্প চুরি করছে ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিক, লীনা গাঙ্গুলিকে নিয়ে বিস্ফোরক পারমিতা মুন্সির

কনে দেখা আলো

বাংলার জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিক ‘কনে দেখার আলো’ পুরোটাই নকল। অন্য কারো লেখা হুবহু কপি করছেন লীনা গাঙ্গুলি। বউ বদলের কনসেপ্ট এবার চর্চায় উঠে এলো। লীনা গাঙ্গুলিকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনলেন প্রখ্যাত লেখিকা ও পরিচালক পারমিতা মুন্সি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু মেইলের ছবি দিয়ে পারমিতা মুন্সি জানিয়েছেন, “কনে দেখা আলো”। এখন অনেক কথার মাঝে একটি পুরনো কথা মনে পড়ে গেল। আমার লেখা একটি গল্প ” বধূ কোন আলো লাগল চোখে”, কলকাতার এক প্রোডাকশনের ব্যানারে একটি বাংলা চ্যানেলে জমা পড়েছিল। Exchange of Wives, mistaken identity অর্থাৎ বৌ বদলের গল্প ছিল এটি। সেইসময় বাংলা চ্যানেলটি এটা করতে পারেনি, কিছু কারণ বশত। বেশ কিছুকাল পরে কয়েকটি হাতঘুরে সেই গল্প হিন্দিতে “এক চুটকি সিন্দুর” বলে রিভাইস করে, মুম্বাইনিবাসী এক প্রযোজকের মাধ্যমে সেই চ্যানেলেরই ন্যাশনাল বিভাগের হিন্দি সিরিয়ালের কন্টেন্ট হিসেবে পিচ করা হয়। তাদের কিছু ফিডব্যাক ছিল। সেই ফিডব্যাক ইনকর্পোরেট করতে দেরি হয়। ইতিমধ্যে নজরে আসে অর্ক গাংগুলীর প্রযোজনায়, “কনে দেখা আলো”- র প্রমো। লেখিকা – লীনা গংগোপাধ্যায়। কাকতালীয়ভাবে দুটি গল্পের ধরন হুবহু একরকম। এখানে “কাকতালীয়” বা “coincidental” শব্দের প্রয়োগ সচেতন।”

তিনি আরও লেখেন, “আমি কখনোই মনে করিনা যে, লীনা গংগোপাধ্যায়ের মতো একজন সিনিয়র রাইটার, আমার গল্পটা কোনোভাবে হাতে পেয়ে, সেটির কপি করেছেন। এমন ভাবনা ধৃষ্টতা। তবুও আমি সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের প্রোগ্রাম হেডকে বিষয়টি ফোনে জানাই। পাশাপাশি স্ক্রীনরাইটারদের জাতীয় সংগঠন Script Writers’ Association of Mumbai (SWA) – কে ইমেইল করি। সেই ইমেইলের স্ক্রীনশট এখানে দিলাম। লক্ষ্য করে দেখবেন আপনারা, এই ইমেলে অভিযোগ করা হয় নি। কেবলমাত্র SWA কে জানানো হয়েছে। শুরু থেকে শেষ অব্দি আমি “similarity” শব্দটা ব্যবহার করেছি। এও লিখেছি- লীনা গংগোপাধ্যায় একজন সিনিয়র রাইটার। তার বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।”

“exchange of wives এমন কোনো অভিনব, ইউনিক কন্টেন্ট নয়, যা নিয়ে নিজের মতো করে আরেকজন ভাবতে পারেন না।
১৯০৫ সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা “নৌকাডুবি” ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ১৯২৫ সালে USA তে “Exchange of Wives” – নামে একটি সিনেমা হয়। এরপরে অনেক কাজ হয়েছে এই বিষয়ে। “লাপাতা লেডিজ” হয়েছে। যদিও আমার গল্পটা অনেক আগে লেখা। তবে হতেই পারে ভিন্ন সময়ে দু’জন ভিন্ন মানুষ একই ভাবনা ভেবেছে। হয়তো তেমনটা নিশ্চিতভাবেই হয়েছে। তবে “কনে দেখা আলো”- র সঙ্গে ” বধূ কোন আলো লাগল চোখে”/ “এক চুটকি সিন্দুর”- এর কাকতালীয়ভাবে হুবহু সাদৃশ্য আমাকে খানিক বিস্মিত করেছে বৈকি। পরে এই নিয়ে অর্কর সঙ্গে আমার একবার কথা হয়েছিল। সেই ব্যক্তিগত কথোপকথন এখানে রাখলাম না। অর্ককে কিশোর বয়স থেকে দেখছি। ও আজ যেমনটাই হোক, একটা স্নেহ আমার আছে অর্কর প্রতি।”
“আমি ইচ্ছে করেই আমার গল্প যে যে প্রযোজকদের মাধ্যমে যে যে চ্যানেলে পিচ করা হয়েছিল, তাদের নাম উহ্য রাখলাম। কাউকে অপ্রস্তুত করতে চাই না এখন হিট অব দ্য মোমেন্ট সিচুয়েশনে। সবাই বন্ধু-বান্ধব। সোশাল মিডিয়ায় তারা আছেন। যদি মনে করেন, নিজেদের নাম নিজেরাই বলবেন।
বিষয়টা হলো, আমি কেন এতদিন বলিনি। কেন SWA -তে একটা ইমেল করে, সংশ্লিষ্ট চ্যানেলকে কপিতে রেখে, এতদিন ঘাপটি মেরে বসে থেকে, আজ বলছি কেন?
সত্যি বলতে, ভয়ে বলিনি। সমাজের প্রভাবশালী একজন মানুষের নামে প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহসে কুলায়নি। এমনিতেই সেইসময় ব্যক্তিগত জীবন, সিনেমা সব নিয়ে ঘেঁটে ছিলাম। আর নতুন করে ঝামেলায় জড়াতে চাইনি। সেদিন সাহসে কুলোয়নি। আজ সাহস করে লিখে ফেললাম। এই কথাগুলোও থেকে যাক, টাইমলাইনে।
যদিও আবার বলছি, আমি এখনো মনে করি, দুটি গল্পের এই সাদৃশ্য কাকতালীয়। আশ্চর্যজনকভাবে হলেও কাকতালীয়। সিনিয়র রাইটার হিসেবে লীনাদির প্রতি এই সম্মানটুকু এখনো আছে। এই নিয়ে এইমুহূর্তে আলাদা করে মিডিয়ায় বলতে চাইছি না। সবই তো বলেই দিলাম। এরপরে আলাদা করে কিছু তখনই বলতে পারব, যদি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট তেমনটা মনে করেন। একজম সাধারণ সদস্য হিসেবে সংগঠনের উর্ধ্বে আমরা কেউ নই।”