
একটি বারো বছরের পুত্র সন্তান এবং স্ত্রীকে ফেলে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন টলিউড ইন্ডাস্ট্রির একজন অন্যতম গুণী অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। রাহুলের মৃত্যুর ৭ দিন পার, তবে কোনভাবেই তার চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না কেউ। অভিনেতার মৃত্যুর বিচার চেয়ে সরব নেটপাড়া।
ছোট সহজ যাতে বড় হয়ে তার বাবার আসল মৃত্যুর কারণ জানতে পারে তাই ফোরাম থেকে নেওয়া হয়েছে প্রোডাকশনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা। বাবার মৃত্যু সন্তানের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আপাতত ১২ বছরের ছোট সহজকে সামলাচ্ছে তার মা। ছেলে সহজ ছিল রাহুলের প্রাণ। ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল অভিনেতার।
ছোট থেকে সহজকে সু-শিক্ষায় মানুষ করেছেন প্রিয়াঙ্কা আর রাহুল। সন্তানের জন্যই ডিভোর্সের পরও নতুন করে সংসার পাতার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সুখের সেই পাতানো সংসারে বট গাছটা আর নেই।
বাকি আর পাঁচটা বাচ্চার থেকে সহজ অল্প বয়সেই ভীষণ পরিণত। সহজের এই ম্যাচুরিটি পুরো ক্রেডিট রাহুল প্রিয়াঙ্কাকেই দিয়েছিলেন। বাবা মায়ের দেখানো আদর্শ পথকেই জীবনে অঙ্গ করে নিয়েছে ছোট সহজ।
রাহুলের পডকাস্ট ‘সহজ কথা’তে একসময় এসেছিল ছোট সহজ। বাবার সব প্রশ্নের গুছিয়ে উত্তর দিয়েছিল ছেলে। তার কথাবার্তা এবং মানসিকতায় দেখে রীতিমত অবাক হয়ে গিয়েছিলেন নেটিজেনরা।
সেদিন পডকাস্টে রাহুল তার ছেলের কাছে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “সহজ কি তার মাকে ভয় পায়?”। ছোট সহজ উত্তর দিয়েছিল, হ্যাঁ, অবশ্যই ভয় পাই। তোমাকে আর মাকে আর একদিক থেকে ভয় পাওয়া উচিত। তবে সেই ভয়টা অন্যরক। আমি ভয় পাই আমার কাজে কখনো যেন তোমাদের দুঃখ না দিই। আমার জন্য আমার বাবা-মার যেন কখনো মাথা নিচু না হয়। এরকম ভয়টা পাইনা যে এটা হয়েছে বলে আমি বাবা-মাকে বলতে পারবো না। আমি আমার বাবা-মাকে খুব বিশ্বাস করি আর ভরসা করি।”
সহজের এই কথা মধ্যে দায়িত্ববোধের পরিচয় ফুটে ওঠে। মাত্র ১২ বছরের একটি ছেলের ভাবনাকে কুর্নিশ জানিয়েছিলেন নেটিজেনরা।
