
বর্তমান সময়ের সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের কন্টেন্টের বিষয়বস্তু নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এবার সেই নিয়েই মুখ খুললেন বিশিষ্ট ভারতীয় সমাজকর্মী এবং অল বেঙ্গল মেন্স ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নন্দিনী ভট্টাচার্য।
‘ডেইলি লাইফ ব্লগিং’-এর নামে যে নিম্নমানের কন্টেন্ট চলছে তার তীব্র নিন্দা করেন নন্দিনী ভট্টাচার্য। আজকাল ইনফ্লুয়েন্সাররা কখন কোন গয়না কিনছেন, কত টাকার গয়না কিনছেন বা ব্যক্তিগত যে বিষয় গুলি সমাজমাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে তা তিনি কন্টেন্ট হিসেবে মানতেই রাজী নয়। এসব তিনি সৃজনশীল বা গঠনমূলক কন্টেন্ট হতে পারে না বলে তার মত।
নন্দিনী ভট্টাচার্য বলেন, “যারা এই ধরনের ভিডিও বানাচ্ছেন, তারা আদেও ‘কন্টেন্ট’ শব্দটির প্রকৃত অর্থ বা মাহাত্ম্য জানেন কি না। ডিজিটাল দুনিয়ায় আজ তথাকথিত জনপ্রিয়তার মোহে প্রকৃত সৃজনশীলতা হারিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটা বা বিলাসিতাকে কেন্দ্র করে ভিডিও তৈরি করা মেধার অপচয়।
তবে সমাজের এই সংকটের জন্য নন্দিনী ক্রিয়েটরদের সাথে সাথে দর্শকদেরও দায়ী করেছেন। আক্ষেপ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ‘সমাজ আজ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে আমরা ‘নিম্ন মেধার এবং নিম্ন রুচির’ মানুষ তৈরি করছি। এই ধরনের অন্তঃসারশূন্য ভিডিওগুলোতে যখন লক্ষ লক্ষ ভিউজ বা দর্শক দেখা যায়, তখন তা সমাজের সামগ্রিক মননশীলতার অবক্ষয়কেই স্পষ্ট করে তোলে। সস্তা জনপ্রিয়তা এবং ভিউজ-এর এই ইঁদুর দৌড় আদতে উন্নত মানের চিন্তাভাবনা চর্চার পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে’।
তিনি আরও জানান, ‘সারা দেশের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই ধরনের ঠুনকো বিষয়কে যেভাবে উপার্জনের একমাত্র পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের মতো একটি শক্তিশালী মাধ্যমকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বিলাসিতা প্রদর্শনের হাতিয়ার বানিয়ে তোলা এবং সমাজ কর্তৃক সেটিকে গ্রহণ করা আমাদের সাংস্কৃতিক দেউলিয়াপনাকেই প্রকাশ করে। ‘
