
২০২৪ সালের ২৭ জানুয়ারি বিয়ে করেছিলেন সোহিনী বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বামী কর্মসূত্রে সুদুর লন্ডন থাকায় সেখানে গিয়েই সংসার পাতেন তিনি। উড়ন তুবড়ি ধারাবাহিকের হাত ধরে দর্শকমহলে পরিচিতি লাভ করলেও বিয়ের পর তার আর অভিনয় জগতে দেখা মেলেনি। তাহলে কি অভিনয় ছেড়ে দিলেন পুরোপুরি?
সম্প্রতি আম অর্পিতাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, বিয়ে, অভিনয় আর বাবার চলে যাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন সোহিনী। সোহিনী জানান, “বিয়ের সিদ্ধান্ত নিজের নেওয়া। অনেকে ভেবেছিলেন তিনি বিদেশে চলে গেছে তাই অভিনয় ছেড়ে দিয়েছে তবে সে ছোট একটা বিরতি নিয়ে শুধুমাত্র।”
বিয়ের প্রসঙ্গে সোহিনী জানায়, “ওখানে বিয়ের কনসেপ্টটা আলাদা। সব নিজের হাতে করতে হয়েছে কিন্তু কোনও অসুবিধা হয়নি বরং পরিণত হয়েছে।” তবে সবকিছুর মধ্যে তার জীবনে ছিল বেদনাদায়ক। বিয়ের পরেই বাবাকে হারান অভিনেত্রী।
চোখে জল নিয়ে সোহিনী বলেন, “বিয়ের পরেই বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু খুব গুরুতর ছিল না। আচমকাই বাবা চলে যাওয়ার আগের দিন আমি ভোরে স্বপ্ন দেখেন বাবা আর নেই। সেই স্বপ্নে আমায় নাড়িয়ে দেয়। কাঁদতে কাঁদতে মাকে ফোন করি তখন শুনি তার বাবাকে অ্যাম্বুলেন্স করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরের দিন আমার রিসেপশন আমি বাড়িতে ফোন করি আমাকে বলা হয় বাবা এখন ভালো আছে। আমি কাউকে বলে বোঝাতে পারবো না আমি কতটা অসহায় ছিলাম। মানসিকভাবে ভেঙে পরলেও পরিস্থিতির চাপে অনুষ্ঠান বন্ধ করা যায়নি তবে আমি যদি আগে জানতেন তার বাবার শারীরিক অবস্থার কথা সব ফেলে দেশে চলে আসতেন। রিসেপশন চলাকালীন বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। নতুন শাড়ি পড়ে অনুষ্ঠানে হাজির থাকলেও মনে গভীর যন্ত্রণা। সেই বেদনা আজও আমায় কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।”
বাবার চলে যাওয়ার সময় আসতে পারেনি সোহিনী, সেই আক্ষেপ সারাজীবন থেকে যায়। সেই শোক বেদনাদায়ক কিন্তু রোহিণীকে অনেক শক্ত করেছে। সংসার জীবন গুচ্ছিয়ে আবার তিনি কলকাতায় ফিরে এসেছে। ভালো চরিত্রের অপেক্ষা করছেন। আবার অভিনয় জগতে ফিরতে তিনি প্রস্তুত। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
