প্রায় ১০ বছর আগের সেই ভয়ংকর স্মৃতি আবার টাইমলাইনে উঠে এলো। প্রতিভাবান অভিনেতা পীযূষ গাঙ্গুলী মৃত্যু, সেই অভিশপ্ত রাত, যা আজও ভুলতে পারেননি বাংলা ইন্ডাস্ট্রির মানুষ। বাংলা চলচ্চিত্রের একজন রত্ন ছিলেন তিনি। অভিনেতার অকাল মৃত্যু আজও মেনে নিতে পারেনি কেউ।
ঠিক তেমনি পীযূষ গাঙ্গুলীর মৃত্যু মেনে নিতে পারেনি তার সহ-কর্মী মালবিকা সেন। সেই ভয়ংকর রাতে সেই গাড়িতে অভিনেতার সাথেই ছিলেন তিনি। অল্পের জন্য প্রাণ বাঁচে তার। সেই রাতের সাক্ষী ছিলেন মালবিকা।
মালবিকা সেন একজন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী এবং অভিনেত্রী। কালার্স বাংলা চ্যানেলের ধারাবাহিক ভোলা মহেশ্বর-এ শিব চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন পীযূষ গাঙ্গুলী এবং পার্বতীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মালবিকা সেন। ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর, দুর্গাপূজার সময় একটি শো থেকে ফেরার পথে সেদিন সেই দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
সেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার সময় প্রায়ত অভিনেতার পাশের সিটেই বসেছিলেন অভিনেত্রী। সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে মালবিকা জানান, “দুর্ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটেছিল যে কিছু বুঝে ওঠার আগেই লরির সাথে আমাদের গাড়ির সংঘর্ষ হয়। আমার চেয়ে পীযূষ গাঙ্গুলীর আঘাত ছিল অনেক বেশি গুরুতর। শুধুমাত্র আমার সেই সময় একটা আবছা সাদা গাড়ির কথা মনে আছে। ওই ঘটনায় আমার সেরকম কোনোভাবেই কোন ক্ষতি হয়নি। আমার শুধুমাত্র পিঠে হাড়ে একটু সমস্যা হয়েছিল এবং কানে একটা অপারেশন হয়েছিল। আমরা তখন হাইওয়ের ধারে দাঁড়িয়ে ছিলাম গাড়ি নিয়ে। আমাদের সাথে থাকা ফটোগ্রাফার ততক্ষণে গাড়ি থেকে নেমে গিয়েছে। আমি এবং পীযুষদা গাড়ির ভেতরে বসে ছিলাম। আমি ফোনের মধ্যে কিছু দেখছিলাম এবং তখনই হঠাৎ করে একটা ছোট মত গাড়ি এসে আমাদের ধাক্কা দেয়, কোন বড় লড়ি ছিল না এটুকু আমার মনে আছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে যাই সেইসময়। তারপরে গোটা ঘটনাটা শুনি। আমার জ্ঞান যখন ফিরেছিল আমি তখন হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে। পীযূষকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু শেষমেষ মাল্টি অর্গান ফেল করায় অভিনেতার মৃ’ত্যু হয়।”

