সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীর পর তার বন্ধু অভিনেত্রী অনন্যা গুহ এখন চর্চায়। সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পরেন অনন্যা। সম্প্রতি মাঝপথে গাড়ি খারাপ হয়ে যাওয়ায় অভিনেতা একটি ভিডিও বানিয়ে কোম্পানির নামে অভিযোগ আনেন। গাড়ির কোম্পানির উদ্দেশ্যেই ভিডিও করেছিলেন অভিনেতা। তবে সেই ভিডিওর উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুলের নাম না নিয়েই অভিনেত্রী অনন্যা গুহ কটাক্ষ করে লেখেন, “ফেসবুকে ভিডিও করা নিয়ে তো খুব সমস্যা ছিল বলেছিলেন সঠিক জায়গা অভিযোগ করুন। তা বলছি গাড়ি খারাপ হলে কি ফেসবুকটাকে সার্ভিস সেন্টার ভেবে ফেলেছে?”।
অনন্যার এই পোস্টের পরের অনন্যাকে উদ্দেশ্যে করে রাহুল লেখেন, “অনন্যা এত ভীতু কেন তুমি?পোস্ট করার সাহস থাকলে নাম নিয়ে কর। আমি যখন বলছি গাড়ি 6 মাসে 4 বার খারাপ হয়েছে গাড়ি অবশ্যই সার্ভিস সেন্টার এ গেছে।কিন্তু নতুন গাড়ি এতবার সার্ভিস সেন্টার যাবে কেন আর মানুষ ঠেলবেই বা কেন?আসলে কি জানো অনন্যা আমি কিয়া কোম্পানির নামে ভিডিও করেছি।কোটি টাকার কোম্পানি কোনও গরিবকে ধর্ম জিজ্ঞেস করে শুয়োর খাওয়াতে চাইনি।আমি 90টা ছবি করেছি ডার্লিং,খাটে বসে বিরিয়ানি খাওয়ার ভিডিও বানাইনি।কাজেই,তফাৎ ছিল আছে থাকবে।”
টেলি পাড়ার জুনিয়র আর সিনিয়ের এই ঠাণ্ডা মোটেই মেনে নিতে পারছে না কেউ। অভিনেত্রী অনন্যা গুহর সিনিয়রকে অপমান ভালো চোখে নেয়নি। এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় অনন্যার আচরণে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন অভিনেত্রী মধুবনী গোস্বামী।
মধুবনী কারো নাম না নিয়েই অনন্যা উদ্দেশ্যে লেখেন, “ছোটো ছোটো ভাইয়েরা বোনেরা, যারা দু দিন হলো ভ্লগ করতে শিখেছো, এবং সেই সুবাদে একটু আধটু পরিচিতি পেয়েছো, তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলি…. তোমরা আসলে কিছুই করে উঠতে পারো নি…..ভালো গান গেয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে দম লাগে…. ভালো অভিনয় করে মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান পেতে দম লাগে…. ভালো গল্প/উপন্যাস লিখে বা ভালো ছবি বানিয়ে মানুষের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিতে দম লাগে…. ভালো নির্মাতা (read producer) হয়ে সেই ছবি বা সৃষ্টি সমাজের বুকে মেলে ধরতে দম লাগে… ডাক্তার- ইঞ্জিনিয়ার হয়ে মানুষের সেবা করতেও দম লাগে…. কিন্তু কিসে দম লাগে না জানো? এই ধরো, একজন স্বনামধন্য ব্যক্তি কে personal attack করে একটু সস্তা publicity কুঁড়োতে! যারা ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার বানিয়ে ধরাকে সড়া জ্ঞান করছো এবং সিনিয়রদের অপমান করছো, তাদের কিছু মজার জিনিস বলতে চাই… ইনস্টাগ্রামে, আমাদের সবার প্রিয় ৯০ এর দশকের সুপারস্টার, যাঁকে আমরা, The Last of the Stars হিসেবেও জানি, তাঁর চেয়ে এখনকার বলিউডের অনেক নায়ক/ নায়িকার ফলোয়ার বেশি…. আবার, ইনস্টাগ্রামেই আমাদের সবার প্রিয় একজন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী, (যিনি একজন বিখ্যাত music director এর ঘরণীও ছিলেন ) তাঁর থেকে এখনকার বাংলা এবং বলিউড মিলিয়ে যেকোনো গায়ক/গায়িকার ফলোয়ার বেশি.. আবার এমন অনেক Legends রয়েছেন, যাদের সোশ্যাল মিডিয়া account ই নেই… তাতে Legends দের কি গেলো আর কি এলো?কিছু কিছু মানুষ, এবং তাদের সৃষ্টির ব্যাপ্তি এই এখনকার “সোশ্যাল মিডিয়া”, “ফলোয়ার”- এসবের ওপর dependant নয়, এসবের থেকে অনেক অনেক ঊর্ধ্বে… এটা জানা, বা বোঝার জন্য অবশ্য প্রকৃত শিক্ষার দরকার (যেটা সব সময় পুঁথিগত নাও হতে পারে)…”।

