
সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ফের বিতর্কের আলোচনায় জিতু কমল। মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ সকালে খবর রটে ‘এরাও মানুষ…’ ছবির সেট ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন জিতু কমাল। ছবির পরিচালক প্রকাশ লাহিড়িও বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন জিতুর বিরুদ্ধে। এমনকি তার জেরেই জিতু নাকি পরিচালককে পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু আসলে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল তা আজকাল ডট ইনকে নিজেই জানালেন জিতু।
জিতু এদিন বিতর্ক প্রসঙ্গে বলেন, “ঝামেলা আমার পিছন ছাড়বে না। প্রথম দিন থেকেই ডেটসের সমস্যা ছিল। ডেটস দেয়, তার ঠিক দুদিন আগে ডেট চেঞ্জ করে দেয়। তাও একটা দুটো দিন নয়, ৫-৬ টা দিন। আমি তো এসভিএফের কাছেও তো অ্যাকাউন্টেবল। ওদের থেকে টাকা নিই। দিনের পর দিন আমি ঘরে বসে রয়েছি, কাজে যেতে পারছি না।”
জিতু আরও জানান, “১৬ তারিখ মানে শুটিংয়ের শেষ দিন ওদের কেন মনে হল যে আমি মেকআপ করছি না, সহযোগিতা করছি না। এরা নতুন। শুটিং শেষ হওয়ার পর বাদ দেওয়া, শিল্পীর অনুমতি ছাড়া ডাবিং নিজের মতো করে নেওয়া যায় না। এগুলো জানে না। আমি ওখানে যেহেতু কথা দিয়ে ফেলেছি, আমাকে ওখানে যেতে হয়েছে। কোনওদিন ঠিক সময় গাড়ি দেয়নি। আমি পৌঁছব কী করে। পিকআপ টাইম দিচ্ছ। কাল আমায় কল টাইম দিয়েছে সাড়ে ৮ টায় আমি ঢুকেছি ৯ টায়। পৌঁছব কী করে?”
জিতুর বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে আসতেই শোরগোল। অভিনেতা বলেন, “গায়ে হাত দিতে আসা, গালি দেওয়া, এটা কে মানবে? শেষ দিন বলে এটা করা যায়? পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলছে, কিন্তু কেন সেটা তো বলছে না। এমনই এমনই বলছে? আমার কাছে একটা ভিডিও ফুটেজ আছে, অমিত তালুকদার, পুরনো লোক বলে নিজেকে দাবি করে, যদিও চিনি না, ও বারবার অরূপদা (অরূপ বিশ্বাস), পিয়াদির (পিয়া সেনগুপ্ত) নাম করে, তাঁদের দিয়ে থ্রেট করানোর কথা বলে। এইগুলো করেছে।
আমি যখন হাসপাতালে ভর্তি হই, এঁদের কারণে হই। এদের ধুলোবালি, হাবিজাবির কারণে। কিন্তু এসব অ্যাম্বার পাউডার দিয়ে লুকসেট হয়নি। হলে ওখানেই বারণ করে দিতাম। কারণ আমার অ্যাজমা আছে। তাঁরা বিশ্বাসই করছেন না যে আমার শরীর খারাপ হতে পারে। আমি ওখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ি, তাও তাঁরা বিশ্বাস করেননি প্রথমে।”
পরিচালকের বিরুদ্ধে জিতুর পাল্টা অভিযোগ, “আমায় সবার সামনে বলেছে এটা কি হারামের টাকা? মেরে তোমায় ঠান্ডা করে দেব। তোমার গায়ে কেউ হাত দেয়নি বলে তুমি এসব করে বেড়াচ্ছ। আমি ভেবেছি ইয়ার্কি করছে। আমিও বলেছি মারো মারো। দড়াম করে দরজাটা আমার হাতের সামনে বন্ধ করে দেন। সাই প্রকাশ আমায় ‘বেরিয়ে যা’ বলেন, তখন আমি বেরিয়ে আসি। কারণ ওখানে শুটিংয়ের পরিবেশ ছিল না। শেষ দিনে এটা ঘটাল। হয়তো আমি ওদের ফাঁদে পা দিলাম। না বেরিয়ে যদি আমি তর্ক করতাম। ফোরামকে জানিয়েই বেরিয়েছি।
কিন্তু এঁরা পাওয়ার গেম খেলার চেষ্টা করে। নেতা মন্ত্রী, এসব করার চেষ্টা করে। আইনি জায়গায় যাবে, আমিও নিশ্চয় আইনি ভাবে লড়ব। কিন্তু গায়ে হাত তোলা, হুমকি দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে আছে, যে আমি বলছি আমায় সরি বলতে হবে সেটাও আছে। অমিত তালুকদার নিজে বলেছেন আমি ওর হয়ে সরি বলছি। ওরা ভাবছে শুটিং হয়ে গেলে গালাগাল দিয়ে বের করে দেব, ছবি আমাদের। ছবি ওদেরই, কিন্তু শিল্পীর অনুমতি ছাড়া তাঁর ডাবিং কেউ করতে পারেন না। এই নিয়ম ওরা জানেন না।”
জিতুর বিরুদ্ধে অভিযোগ অভিনেতা নাকি প্রথম দিন থেকেই স্পট বয় থেকে ফ্লোরের অনেকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। এমনকী জানিয়েছেন, ১০ ঘণ্টার বেশি শুটিং করতে পারবেন না। আর যদি করেন এক ঘণ্টার জন্য নাকি দেড় লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেবেন। শুটিং শুরুর কথা বললে অভিনেতা পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চাইতে বলেন। তারপরই নাকি তিনি বেরিয়ে যান। এরপর নির্মাতাদের তরফে জিতুর সঙ্গে ছবির চুক্তি বাতিল করা হয়েছে বলেই জানা যায়।
