‘মাঝরাতে বলেছে তুই আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যা…জঘন্য দুর্ব্যবহার…আমার ছেলেটাও’…, জয়জিতের সাথে ডিভোর্সের আসল কারণ জানালেন স্ত্রী শ্রেয়া

জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

ডিসেম্বরেই স্ত্রী শ্রেয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ হয়েছে অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরেও অভিনেতার প্রাক্তন স্ত্রী কোনও মন্তব্য করেননি এই বিষয়ে। তার মধ্যেই শ্রেয়ার সঙ্গে ঈশান মিত্রের প্রেমের গুঞ্জন জোরালো টলিপাড়ায়। বিতর্কের মাঝে এবার প্রাক্তন স্বামী জয়জিৎ সম্পর্কে একগুচ্ছ অভিযোগ উগরে দিলেন শ্রেয়া।

একসময় নাকি শ্রেয়াকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেও বলেন অভিনেতা। যার জন্য বাড়ি ছাড়েন শ্রেয়া। সেই প্রসঙ্গে শ্রেয়া বলেন, “জয়জিৎ আমার সঙ্গে খুব ভাল ব্যবহার করেনি, যে কারণে আমাকে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়। আমাকে মাঝরাতে বলেছে ‘তুই আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যা।’ তারপরেই ওই বাড়ি ছেড়েছি আমি।

শেষ দিন অবধি চেষ্টা করেছিলাম বিয়েটা টিকিয়ে রাখতে। আমি যখন জয়জিৎকে বিয়ে করেছি তখন ও জিরো ছিল। আমরা মাটিতে ঘুমোতাম। বিয়ের পরে যেমন পড়াশোনা, চাকরি করতে ও আমাকে সাহায্য করে তেমনই ওর মা-বাবারও অনেক অবদান রয়েছে আমার জীবনে। যা আমি ভুলতে পারব না কখনও।”

শ্রেয়া আরও জানান, “আমার দুঃখের জায়গা হল, আমার শ্বশুর-শাশুড়িও শেষ আড়াই বছরে কোনও যোগাযোগ করেননি। আমি তো ওঁদের সঙ্গেও ২০ বছর কাটিয়েছি। এদিকে ওঁদের ৫০ বছরের বিবাহবার্ষিকীতে ডেকেছিলেন লোক দেখাতে। যাতে সবাই বোঝে আমাদের মধ্যে সব ঠিক আছে। কিন্তু তারপর থেকে কেউ খোঁজ নেননি, আমি কেমন আছি? জয়জিৎও বলেনি, তুই আমার বাড়িতে ফিরে চল।

কারণ, জয়জিতের তো খুব রঙিন জীবন। সেটা সবার জানা। সেই রঙিন জীবন নিয়ে এতটাই মত্ত ছিল যে, ও ভুলে গিয়েছিল ওর বউ আছে, সংসার আছে। আমাকে লোকে যা-ই বলুক না কেন আমি সংসার টেকানোর চেষ্টা করেছি। তবে এ ক্ষেত্রে বলব, আমারই অক্ষমতা। কারণ, একটা সময় পর্যন্ত জয়জিতের অসভ্যতা আমি নিয়েছি, তারপরে আর নিতে পারছিলাম না।”

শ্রেয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে জয়জিৎ বলেন, “আমি এই সব কাদা ছোড়াছুড়ি করতে চাই না। শ্রেয়া আমার সন্তানের মা, আমার সম্পর্কে যা খুশি বলতে পারে। কে ঠিক, কে ভুল আগামী দিনে ঠিক জানা যাবে।”

শ্রেয়া বলেন, “ছেলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ও ঠাকুরদা-ঠাকুমার কাছে থাকবে। ওঁদের বয়স হয়েছে। ও মা-বাবা কারও সঙ্গেই থাকতে চায়নি।”