“২৪ বছর পর, আজও অনন্যাদিকে মা বলেই ডাকি…”, অভিনেত্রী অনন্যা চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে আবেগে ভাসলেন পর্দার মেয়ে ঈপ্সিতা

ঈপ্সিতা মুখোপাধ্যায়

সময় অনেকটা পেরালেও স্মৃতির অ্যালবামে সবটাই এখনও তাজা। ২৪ বছর আগে ‘সুবর্ণলতা’ ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন অনন্যা চট্টোপাধ্যায় ও ঈপ্সিতা মুখোপাধ্যায়। তখন একজন ছিলেন স্কুলপড়ুয়া, আর অন্যজন পর্দার অভিজ্ঞ অভিনেত্রী। ২৪ বছর পরেও তাদের মধ্যেকার সেই ভালবাসা আজও অটুট।

সম্প্রতি ১৬ জানুয়ারি অনন্যা চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন। আর অভিনেত্রীর জন্মদিনে ফের পুরনো স্মৃতিতে ভাসলেন ঈপ্সিতা। সুবর্ণলতার সেটে অনন্যাদিই ছিলেন তার ভরসা, তার অভিভাবক, এক কথায় আর এক মা।

তখন ছোট বয়স, কাজের চাপ থাকলেও শুটিং সেট ছিল আনন্দে ভরা। তখন একসঙ্গে অনেক দৃশ্য থাকত, আর প্রতিটি দৃশ্যের আগে অনন্যাদি নিজে ডেকে নিয়ে রিহার্সাল করাতেন। কোথায় কীভাবে দাঁড়াতে হবে, কোন সংলাপে কী অনুভূতি দিতে হবে, সবটাই ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে দিতেন তিনি। সেটে ডাকতেন মা বলেই। সেই ডাক আজও বদলায়নি। তবে আফসোস থেকে গেছে, তার পরে আর সেভাবে একসঙ্গে কাজ করা হয়নি। ঈপ্সিতার মনের ইচ্ছে আজও আবার একসঙ্গে কাজ করার।

শুটিং সেটে অনন্যাদির বাড়ি থেকে যা খাবার আসত, তার একটা অংশ আলাদা থাকত ঈপ্সিতার জন্য। সেটে নিজে হাতে খাইয়ে দিতেন অনেক সময়। কোনও ভুল করলে বকাঝকা নয়, বরং আদর করে শিখিয়ে দিতেন। ছোট ছোট সেই মুহূর্তগুলোই আজ স্মৃতির পাতায়।

আজকের মতো ক্যাফে কালচার ছিল না, হাতে হাতে মোবাইলও নয়। শুটিং শেষ হলে সবাই মিলে বেরিয়ে পড়ত পিকনিকে। হাসি, গল্প আর খুনসুটিতে ভরে উঠত দিনগুলো।

একবারের একটা পিকনিকের কথা আজও মনে গেঁথে আছে। সেদিন তার নিজের মা ও শুটিংয়ে সঙ্গে গিয়েছিলেন। কোনও এক মুহূর্তে দূর থেকে মা বলে ডাকতেই একসঙ্গে সাড়া দিয়েছিলেন অনন্যাদি আর তাঁর মা। সেই দৃশ্য আজও চোখে ভাসে, ভুলবার নয়।

অনন্যাদির জন্মদিনে ঈপ্সিতার একটাই চাওয়া, আমার এই আরেক মা যেন সবসময় ভাল থাকেন, সুস্থ থাকেন। সময় বদলালেও সম্পর্কের টান যেন কখনও কম না হয়।