অভিনয় জগতের চাকচিক্যের আড়ালে যে কতটা হাহাকার লুকিয়ে থাকে, তা সামনে আনলেন ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকের অভিনেত্রী নন্দিনী উর্ভি সাহা। বর্তমানে অভিনেত্রীকে স্টার জলসার পর্দায় কূর্চির পুত্রবধূর চরিত্রে তাকে দেখা গেলেও, তার পর্দার পেছনের বাস্তবটা একেবারেই আলাদা। সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় নিজের জীবনের চরম যন্ত্রণার কথা ফাঁস করেছেন নন্দিনী।
দর্শকদের জন্য দুঃসংবাদ দিয়ে নন্দিনী স্পষ্ট জানিয়েছেন, হয়তো আর কোনোদিনও দর্শক তাকে টিভির পর্দায় দেখতে পাবেন না। মানসিক শান্তি ও আত্মসম্মান রক্ষায় তিনি অভিনয় জগত থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। আর এই তিক্ত অভিজ্ঞতা তাকে এতটাই বিষিয়ে দিয়েছে যে তিনি আর ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে চাইছেন না।
ভিডিওতে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের একাধিক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতেই নন্দিনী জানিয়েছেন, একটি প্রজেক্টে তাকে প্রথমে লিড হিসেবে নির্বাচিত করা হলেও পরে অপেক্ষা করতে বলা হয়। তাকে লিড দেওয়া হয়েছিল ‘আলতা ফড়িং’ ধারাবাহিকে। অভিনেত্রী বলেন, “আলতা ফড়িং-এ আমি লিড করব বলে সিলেক্টেড হই… কিন্তু আমাকে বলা হলো যে এই ক্যারেক্টারটা তুমি পাচ্ছ না, তুমি কিছুদিন অপেক্ষা করে যাও তোমাকে আমরা লিড দেব”। কাজের পরিবেশে ধীরে ধীরে শুরু হয় র্যা’গিং এবং মা’ন’সি’ক চাপ। তার দাবি, এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁর ছোটবেলার ট্রমাগুলোকে সারিয়ে তোলার বদলে আরও গভীর ক্ষ’ত তৈরি করেছে।
নন্দিনী দীর্ঘকাল ধরেই ‘বাইপোলার ডিসঅর্ডার’-এ আক্রান্ত। তিনি জানান, এই মানসিক সমস্যার জন্ম হঠাৎ করে হয়নি। ছোটবেলা থেকে দীর্ঘদিন ধরে চলা মানসি’ক অত্যাচার, অবদমন এবং ভয়ের পরিবেশ থেকেই এই অসুস্থতার সূত্রপাত। তা আজ তাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে অভিনেত্রী মনে করেন।
পর্দার রঙিন দুনিয়ায় কাজ করতে গিয়ে র্যাগিং এবং প্রচণ্ড অমানবিক মানসিক চাপের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন নন্দিনী। নিজের নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করা সত্ত্বেও বারবার তাকে অন্যায়ের শিকার হতে হয়েছে।
ভিডিওর শেষ অংশে কান্নাভেজা গলায় নন্দিনী নিজের কষ্টের কথাও বলেন। ওজন বৃদ্ধি ও শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ট্রোল করা হয়, তা তাকে মানসিকভাবে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছে এমনটাও জানান অভিনেত্রী।
এত কিছুর পরেও হার মানতে রাজি নন নন্দিনী। ভবিষ্যতে একটি নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস তৈরির মাধ্যমে নতুন ও যোগ্য প্রতিভাদের সুন্দর কাজের পরিবেশ উপহার দিতে চান তিনি। নন্দিনীর এই সাহসী প্রতিবাদ বর্তমানে নেট দুনিয়া সহ টলিপাড়ায় ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে।
নিজেকে মফস্বলের মেয়ে হিসেবে পরিচয় দিয়ে নন্দিনী বলেন, চুঁচুড়ার মতো জায়গা থেকে উঠে এসে বড় স্বপ্ন দেখা সহজ নয়। মফস্বলের কোনো মেয়ে যখন বড় হওয়ার জেদ ধরে, তখন তার চারপাশের পরিবেশই অনেক সময় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবুও নিজের মনকে বিশ্বাস করেই তিনি এগিয়ে এসেছেন। তার মতে, নিজে ভালো থাকলে তবেই চারপাশের জগৎ ঠিক থাকবে।

