‘সকলের সামনে আমাকে চরম অপমান, ওর জন্যই কাজ থেকে বাদ পড়ি…মুখোশ যদি খুলে যায়…’, নাম না করেই শ্বেতার মুখোশ খুলল সহ-অভিনেত্রী মৌমিতা চক্রবর্তী

অভিনেত্রী মৌমিতা চক্রবর্তী

কোন গোপনে মন ভেসেছে ধারাবাহিকের নায়িকা শ্বেতা ভট্টাচার্যের একটি মন্তব্য এখন চর্চার মূল কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট চ্যানেলে জানান তিনি  ‘হাতকাটা’ পোশাক পরতে রাজি নন শ্বেতা ভট্টাচার্য। কারণ তিনি শরীর বেচতে আসেনি। আর তার এই মন্তব্য এখন চারিদিকে সমালোচনার বন্যা।

অনেকে অভিনেত্রীরা শ্বেতার এই মন্তব্যকে শিল্পীদের অপমান হিসাবে দেখছেন। শ্বেতাকে এক হাত নিয়েছেন স্বস্তিকা মুখার্জি’র মতো অভিনেত্রীরাও। তবে এবার অতীতের অজানা কথা জানিয়ে শ্বেতা ভট্টাচার্যের মুখোশ সকলের সামনে খুলে দিলেন অভিনেত্রী মৌমিতা চক্রবর্তী। যিনি কনক কাঁকন সিরিয়ালের শ্বেতার সাথে কাজ করেছেন। তার দাবি নায়িকার জন্যই চরিত্র থেকে বাদ পড়েছেন মৌমিতা।

যদিও শ্বেতা ভট্টাচার্যের কোনও নাম উল্লেখ করেননি তার পোস্টে। তবে তার লেখা দেখা স্পষ্ট তিনি শ্বেতার হাতকাটা ব্লাউজ মন্তব্যকে নিয়েই কথা বলছেন।

ফেসবুকে লম্বা পোস্ট করে মৌমিতা চক্রবর্তী লেখেন, “২০১৮ সাল। কনক কাঁকন সিরিয়ালের সেট। প্রায় ২০০ জনের সামনে সেই সিরিয়ালের মিষ্টি মুখের দুই নায়িকার মধ্যে এক নায়িকা অভিনেত্রী আমাকে প্রকাশ্যে অপমান করলেন। আমি নাকি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে পারি না, আমার নাকি কথার জড়তা ভাঙেনি, আমি নাকি ভীষণ কুৎসিত ও অসুস্থ, তাও আমি কী করে অভিনয়ের সুযোগ পাই! সেই মুহূর্তে একমাত্র দীপঙ্কর দে আমার পাশে দাঁড়ালেন। প্রতিবাদ করলেন। বুঝলাম যে জাত অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন মহৎ মানুষও।”

মৌমিতা আরও যোগ করেন, “কিন্তু অপমান থামেনি। ফ্লোর থেকে বেরোতেই প্রডিউসারের কাছে ফোনে আরও তীব্র আঘাত পেলাম। তাঁর বক্তব্য সেই নায়িকা বহুবছর ধরে নাকি ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছেন, আমার থেকে বয়েসে, অভিজ্ঞতায় অনেক সিনিয়র, আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত। আমি বাকরুদ্ধ!! এতটাই ভেঙে পড়েছিলাম যে জ্ঞান হারালাম। পরে crew মেম্বারদের থেকেই জানতে পারলাম যে সেই অভিনেত্রীই নাকি সেই সিরিয়ালে কারা কারা কাজ করবেন তা ঠিক করেন, আর অসংখ্য মানুষকে একইভাবে ভেঙে দিয়েছেন। সেদিন আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম – খেতে না পেলেও, মরে গেলেও , সম্মান বিসর্জন দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি তে বাঁচবো না। আজ আমার নতুন করে পাওয়ারও কিছু নেই আর হারাবার কিছু নেই। তাই সত্যিটা বলছি। আজ যাকে দর্শক অন্ধ ভালোবাসা দেন, তাঁর মুখোশ যদি খুলে যায়, আমি নিশ্চিত যে একজনও আর সেই মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা বা ভালোবাসা দেখাবেন না।