ইতিমধ্যেই ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এ ‘রোহিণী’ চরিত্রে দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন নবনীতা মালাকার। দুই নাকে নথ। পরনে দক্ষিণ ভারতীয় সিল্ক। খলনায়িকা এত সুন্দরী! দর্শক বোধহয় ভাল করে রেগেও উঠতে পারছেন না আপনার উপর? আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে নবনীতা বলেন।,
“জলপাইগুড়ির মেয়েটি তো নায়িকা হবে বলে কলকাতায় পা রেখেছিল। অভিনয়দুনিয়ায় এসেছিল। একাধিক ধারাবাহিকে ইতিবাচক চরিত্রে অভিনয়ও করেছি। দেখা গেল দর্শক খলনায়িকা হিসাবেই আমায় বেশি চাইছেন!” জানালেন, সত্যিই তাঁর উপর দর্শক রাগেন না। উল্টে সমাজমাধ্যমে জানতে চান, “এত মিষ্টিমুখের একটি মেয়ে কী করে হাসতে হাসতে খুন করে?”
আদালতের দৃশ্যে আইনজীবী হিসাবে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত। পর্দায় তাঁকে নায়ক-নায়িকা ভয় পান। বাস্তবের ‘দুষ্টু লোক’দের হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর মন্ত্রগুপ্তি কী সুন্দরী নবনীতার? অভিনেত্রীর স্পষ্ট জবাব, “দুষ্টু লোকেরা আমায় ছাড়েনি তো! প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েছে! অনেক অত্যাচার সয়েছি। চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে। পাথর হয়েছি। তবে আজ পর্দার ‘রোহিণী’ হতে পেরেছি!” কথা বলতে বলতে ফিরে গিয়েছেন অতীতে।
উত্তরবঙ্গের মেয়ে নবনিতা। কথায় বাঙাল ভাষার ছোঁয়া। ক্যামেরার সামনে কী করে অভিনয় করতে হয়, জানতেন না। শুরুতে তাই খুব নিন্দা কুড়োতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। “বাংলা নিয়ে পড়াশোনা করেছি। সকলের সঙ্গে মিষ্টিমুখে কথা বলি। ইন্ডাস্ট্রিতে দেখি সে সবের কোনও মূল্যই নেই! খুব কষ্ট হত।”
১১ বছর ধরে দুঃখের আগুনে পুড়তে পুড়তে তিনি আজকের নবনীতা মালাকার, যিনি আজ সব সইতে পারেন। নবনীতার কথায়, “কাজের শুরুতে বয়স কম। ভীষণ অপরিণত। সবাইকে তখন আপন ভাবতাম। নিজের মনে হত। জীবন ঘা দিতে দিতে বুঝিয়েছে, কেউ আপন হয় না। কেবল মা-বাবা আর ঈশ্বর ছাড়া।”
ইতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করলেও খলনায়িকা হিসাবেই জনপ্রিয় তিনি। সময় প্রচুর কাজ ছেড়েছেন। শুধু নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করবেন বলে! মা-বাবা সেই সময়ে বুঝিয়েছিলেন নবনীতাকে। লড়তে হবে, নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। ছোট বোনকে মানুষ করতে হবে। বাবার পাশে দাঁড়াতে হবে। নিজের দায়িত্বও নিতে হবে। তার মধ্যেই নবনীতার মা পায়ের আঘাতে বিছানা নিয়েছো।
“পর্দার নায়িকা হতে চেয়েছিলাম। নানা ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে ঈশ্বর আমায় বাস্তব জীবনের ‘হিরোইন’ বানিয়ে দিয়েছে!” এ ভাবেই নিজেকে বুঝিয়েছেন অভিনেত্রী।

