চিরবিদায় ‘চৌরঙ্গী’ -র স্রষ্টা প্রবাদপ্রতিম সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়

মণিশংকর মুখোপাধ্যায়

সাতসকালেই মিলল খারাপ খবর! বাংলা সাহিত্য জগতের এক বিশাল নক্ষত্রপতন। । দীর্ঘ অসুস্থতার পর চিরবিদায় নিলেন প্রবাদপ্রতিম সাহিত্যিক মণি শংকর মুখোপাধ্যায়। যাঁকে পাঠকসমাজ চেনে ‘শংকর’ নামে।

শুক্রবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বার্ধক্যজনিত একাধিক সমস্যায় ভুগছিলেন প্রবীণ এই সাহিত্যিক। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও শুক্রবার আর শেষরক্ষা হল না। বেশ কয়েক দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। ব্রেন টিউমারে ভুগছিলেন।

১৯৩৩-এর ৭ ডিসেম্বর অধুনা বাংলাদেশের যশোহরের বনগ্রামে জন্ম শংকরের। বাবা হরিপদ মুখোপাধ্যায় পেশায় ছিলেন আইনজীবী। শংকরের ছোটবেলা কেটেছে হাওড়ায়। জীবনের শুরুতে কখনও শিক্ষকতা, কখনও হাইকোর্ট পাড়ায় কাজ করলেও লেখালেখির প্রতি গোড়া থেকেই অনুরক্ত তিনি।

শংকরের কলমে উঠে এসেছে সদ্য স্বাধীন কলকাতার সাহেবপাড়ার জীবন, শহরের অন্তর্লীন টানাপোড়েন, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও বেদনার গল্প। তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি ‘চৌরঙ্গী’ বাংলা উপন্যাসের ভুবনে এক মাইলফলক। পাশাপাশি ‘কত অজানারে’, ‘সীমাবদ্ধ’, ‘জন অরণ্য’-র মতো কালজয়ী রচনা তাঁকে এনে দিয়েছে অনন্য সম্মান ও জনপ্রিয়তা।

মণিশংকর মুখোপাধ্যায়

তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের (শংকর) প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হল। চৌরঙ্গী থেকে কত অজানারে, সীমাবদ্ধ থেকে জনঅরণ্য – তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে। তাঁর লেখনীর আধারে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের না-বলা কথা। বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে তাঁর সুগভীর গবেষণা ও গ্রন্থসমূহ আমাদের কাছে অমূল্য সম্পদ। তাঁর প্রয়াণ আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও অগণিত গুণগ্রাহীকে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।’