
রবিবার তালসারিতে রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বাংলা বিনোদন জগত। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই তুলছেন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছেন অনেকেই। দুঃসংবাদ আসার পর থেকেই, টলিপাড়ার অনেকেই হাজির হন, রাহুলের বাড়িতে। সোমবার অভিনেতার মরদেহ বিজয়গড়ের বাড়িতে আনা হলেই অভিনেতার নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী রুকমা রায়।
‘দেশের মাটি’-র রাজা ও মাম্পিকে এখনও মনে রেখেছে দর্শক। ধারাবাহিকে রাহুল-রুকমার জুটি এতটাই হিট হয়েছিল যে সেসময় তাদের বন্ধুত্ব দেখে অনেকেই মনে করতেন বাস্তবেও সম্পর্কে রয়েছেন তাঁরা।
রাহুল আর নেই…এই কঠিন সত্যিটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না অভিনেত্রী। রুকমার কথায়, “কিছু দিন আগেও আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। ওঁর পডকাস্ট চ্যানেল নিয়ে কথা হল, আমার ব্র্যান্ড নিয়ে কথা হল। আমায় বলল, তোর ব্র্যান্ডের জন্য একটা ভাল জিনিস ভেবেছি, বলব তোকে। তারপর ইয়ার্কি, ফাজলামো হল, রেখে দিলাম। কালকে থেকে আমি বুঝতেই পারছি না কী বলব, যখন থেকে শুনেছি বিশ্বাসই করতে পারছি না।”
“আমিও কিছুই বুঝতে পারছি না, কী করে শ্যুটিংয়ে এটা হতে পারে! আমাদের শিল্পীদের শ্যুটিংয়ের সময় মাথায় কিছুই থাকে না। যা বলা হয় করে দিই। যা হচ্ছে হোক, পরে দেখা যাবে এরকম একটা ভাব থাকে। কাজের সময় বিপদ হতে পারে, একথাটা খুব কমই মাথায় আসে। আমাদের সব সময় মনে হয়, এতজন তাকিয়ে থাকে, তাই হয়তো সুরক্ষিত আছি। এটাই তো হওয়া উচিত। তবে আজ যেটা দেখছি, সেটা কোনওভাবেই আশা করা যায় না। মেনেও নেওয়া যায় না।”
রুকমা আরও বলেন, “ও এত ভাল মানুষ, এত ভাল বন্ধু- দাদা। তাঁকে কোনও দিনও আর কিছু বলতে পারব না? কোনও কাজ করা মানেই রাহুলদা সব সময় ফোন করত, কাজ নিয়ে প্রশংসা করত, কিছু নতুন শুরু করলে সব সময় বলত। আমি ভাবতেও পারছি না, কী বলব এটা নিয়ে। আমাদের অনেক স্মৃতি। এত ভাল অভিনেতা, এত ভাল লেখক, এত ভাল সহ- অভিনেতা। আমি খুব লাকি ওঁর সঙ্গে দুটো কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। কত কিছু যে শিখেছি মানুষটার থেকে। আমি ঠিক বোঝাতে পারব না, কীরকম অনুভূতি হচ্ছে এই মুহূর্তে।”
