
একের পর এক শিল্পী বিদায় নিচ্ছেন ইন্ডাস্ট্রি থেকে। ফের আরও একবার শোকের ছায়া টলিপাড়ায়। বুধবার সকালে সব শেষ! চলে গেলেন জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সাধক বামাখ্যাপা’র চিত্রনাট্যকার ঋতম ঘোষাল। সম্প্রতি পুরী ভ্রমণে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফেরার পথেই অসুস্থ বোধ করেন। জানা গিয়েছে, পথেই তাঁর এক দফা হার্ট অ্যাটাক হয়।
কলকাতায় ফেরার পর তড়িঘড়ি তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলেও চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শিল্পী। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।
জানা গিয়েছে, বুধবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে তাঁর নশ্বর দেহ নিয়ে আসা হবে। সেখানে প্রিয় সহকর্মীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন অভিনেতা ও কলাকুশলীরা। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকস্তব্ধ স্টুডিও পাড়া।
ঋতম ঘোষাল মানেই ছিল পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক গল্পের এক অদ্ভুত বুনন। ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’-র আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার নেপথ্যে তাঁর কলমের জাদু ছিল অনস্বীকার্য। এছাড়াও ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’, ‘কিরণমালা’, ‘দেবী চৌধুরাণী’ কিংবা ‘কৃষ্ণ’-র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকগুলোর চিত্রনাট্য লিখে তিনি দর্শকদের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছিলেন।
শোকপ্রকাশ করেছেন অভিনেতা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ঋতমের লেখনীর জোরে ‘সাধক বামাখ্যাপা’ ১০ বছর চলেছিল। রোজ ঋতম আমার জন্য সিন লিখে পাঠাত। আর আমি অভিনয় করতাম। ভক্তিমূলক, পৌরাণিক বা ঐতিহাসিক ধারাবাহিক লেখায় ওর মুনশিয়ানা ছিল।”
মাঝে স্পন্ডিলাইটিস এবং আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগেছেন ঋতম। মঙ্গলবার রাতেই সদ্যপ্রয়াতের স্ত্রী ফোনে পুরো ঘটনা জানান অরিন্দমকে। অরিন্দমের কথায়, “বরাবর ঈশ্বরভক্ত ছিল ঋতম। ওঁর স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে জানালেন, সেই জন্যই বোধহয় জগন্নাথদেব দর্শনের পর প্রয়াণ ঘটল ঋতমের।”

