সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে নেটিজেনদের তীব্র কটাক্ষের জেরেই লাইভে এসে নিজের মন খারাপের কথা জানান দেবলিনা নন্দী। তাকে নিয়ে মানুষের মধ্যে যে বিভ্রান্ত তৈরি হয়েছিল তা নিয়ে মুখ খুলতেই গায়িকাকে নিয়ে ফের জল্পনা শুরু।
শ্বশুরবাড়ির এবং স্বামীর বিরুদ্ধে দেবলীনা যেমন কিছু অভিযোগ এনেছেন ঠিক তেমনি দেবলীনার বিরুদ্ধে এবার অভিযোগ আনলেন দুই ব্যক্তি। হঠাৎ করেই দেবলিনার সম্পর্কে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ফেসবুক লাইভে এসে ওই দুই ব্যক্তি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও দেবলীনা প্রাপ্য অর্থ দেননি তাঁদের। ফোন করলে বারবার হাসপাতালে ভর্তির অজুহাত দিয়েছেন গায়িকার মা। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই মুহূর্তে ভিডিওটি ভাইরাল হতেই আবার চর্চা শুরু হয় দেবলীনাকে নিয়ে।
নীল এবং ঋভু নামের দুই ভিডিওগ্রাফার বন্ধু, দেবলিনাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু বিস্ফোরক দাবি জানায়। তারা বলেন, আজ যে সবাই বলছে দেবলিনা খুব ভালো মানুষ, সবার সঙ্গে দিদির মত মেশে, তার সাথে কাজের অভিজ্ঞতাও খুব ভালো। আমাদের কিন্তু তা মনে হয় না।
আমরা পেশায় ভিডিওগ্রাফার এবং এডিটর। তারসঙ্গে কিছু আর্টিস্টদের সমাজ মাধ্যমের দায়িত্বও সামলাই। সেই সুত্রেই ২০২১ সালে আমাদের দেবলিনার সঙ্গে পরিচয়। ওনার ৭০ হাজারের পেজকে আমি বছর দুয়েরকের মধ্যে ১.২ মিলিয়ন করে দেই। এরজন্য কিন্তু কোনদিন টাকা চাইনি। ভালবেসেই করতাম। একজন শিল্পীকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। এরপর আমরা বহুকাজ করেছি একসঙ্গে।
রিলস বানিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে নাচের ভিডিও। ভাই বলত আমাদের, আমরাও পরিবারের মত মিশতাম। দেবলিনার সঙ্গে কাজের পরিমান বাড়তেই দুর্গাপুর ছেড়ে কোলকাতায় চলে আসি। বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করতে যাতায়াতের খরচ লাগত, কাজের তো টাকা লাগেই। সেই মুহুর্তে আমাদের বলা হত সবকিছুর হিসেব রাখতে। পড়ে সবটাকা মিটিয়ে দেবে গায়িকা। এমন করতে করতে দেড় বছর পর আমাদের দুজনের হিসেবের অংক দাঁড়াল ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজারের মত।
আমরা এরপর টাকা চাইতে শুরু করি। প্রথমে উনি প্রতিশ্রুতি দিলেও পড়ে ফোন ধরতেন না। তারপর ওনার মা ফোন ধরে বলে গায়িকা হাসপাতালে ভর্তি তাই টাকা হবে না। পারিবারিক অবস্থা ভালো না, এইসব বলে দিনের পর দিন ঘোরাতে থাকে আমাদের। আমাদের কাছে আজও হিসেব আছে সবকিছু। দেবলিনার সঙ্গে যা চ্যাট হয়েছে সেগুলো আছে। কিছুদিন যাওয়ার পর আমরা বুঝি ওই টাকা পাব না। তাই দুজনেই সরে আসি ওনার কাজের দায়িত্ব থেকে।
ওনার ইউটিউব ভিডিওতে গেলে ভিডিওগ্রাফারের জায়গায় আমাদের নাম দেখতে পাবেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেমনটা তুলে ধরা হচ্ছে উনি তেমনটাও নয়। দরকারে মানুষকে কাজে লাগিয়ে পড়ে ছুরে ফেলে দেন।
তবে প্রথম ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয় ভিডিও করেন ওই দুই ব্যক্তি। প্রথম ভিডিওটি ডিলিট করে দিয়ে তারা বলেন, আমাদের কথা হয়ে গিয়েছে দিদির সঙ্গে। দিদি আমাদের প্রাপ্য অর্থ মিটিয়ে দিয়েছেন। হয়তো এখন অসুস্থ বলে রেগে গিয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপভাবে কথা বলেছেন, তাতে আমাদেরও খারাপ লেগেছিল। কিন্তু এখন সবকিছু মিটে গিয়েছে।
ওই দুই ব্যক্তি আরও বলেন, আমাদের উচিত হয়নি আমাদের কথোপকথন স্ক্রিনশট শেয়ার করা। যদি কেউ ডাউনলোড করে থাকেন তাহলে দয়া করে সেটি পোস্ট করবেন না। ওঁর সঙ্গে আমরা কাজ করেছি এবং আমাদের প্রাপ্য আমরা পেয়ে গিয়েছি আমাদের আর কিছু বলার নেই।

