গত কয়েকদিনে ব্লগার সায়ক চক্রবর্তীকে নিয়ে ঝড় উঠেছে নেটপাড়ায়। সায়ককে নিয়ে বিতর্ক যেন শেষ হচ্ছে না। গো-মাংস বিতর্কে জড়িয়ে ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষের মুখে অভিনেতা।
পার্ক স্ট্রিটের এক বিখ্য়াত রেস্তোরাঁ এবং বারে গিয়ে মাটন স্টেকের বদলে গরুর মাংস স্টেক খাওয়ানো হয়েছে তাঁকে, এমন অভিযোগ তোলেন সায়ক। তাঁর ভিডিয়োতে নিজের ভুল স্বীকারও করে নিতে দেখা যায় ওয়েটারকে। সায়কের সেই অভিযোগ ঘিরে উত্তাল সমাজমাধ্যম।
নিজের অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েও রেহাই পাননি রেস্তারাঁর ওই কর্মী। গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। এর জেরে সায়কের উপর ক্ষুব্ধ টলিপাড়ার একটা বড় অংশ। এই বিতর্কে টেলিপাড়ার অনেকে মুখ খুললেও এবার বাদ গেলেন না সায়কের এক সময়ের ‘ভালো বন্ধু’ অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুণ্ডু।
সৌমিতৃষার স্পষ্ট অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় এনগেজমেন্ট বাড়ানো এবং অর্থ উপার্জনের নেশায় এক ‘নিরপরাধ ওয়েটার’-কে বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন সায়কের মতো প্রভাবশালীরা।
সায়কের নাম না নিয়েই সৌমিতৃষা লেখেন, ‘যখন কনটেন্টের রিচ এবং এনগেজমেন্ট বেড়ে যায়, তখন টাকাও আসে। আগে ওরা আমার মতো বা যাঁদের ভিডিও ভাইরাল হয় তাঁদের ব্যবহার করে অনেক টাকা কামিয়েছে। এখন রিচ পড়ে যাচ্ছে দেখে এইসব করতে শুরু করেছে।’
সায়কের ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, তিনি রেস্তোরাঁর ওয়েটারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন এবং শুধু তাই নয়, ওয়েটারের ধর্মীয় পরিচয় টেনেও তাঁকে বিঁধতে ছাড়েননি। আর এই বিষয়তেই ক্ষোভ উগরে দেন সৌমিতৃষা।
সৌমিতৃষা লেখেন, ‘একটা নিরপরাধ ওয়েটারকে ফাঁদে ফেলা? আমরা সত্যিই অন্ধকারের মধ্যে বাস করছি।’
বিতর্কের শুরুটা হয়েছিল অয়ন চক্রবর্তীর একটি পোস্ট থেকে। যেখানে তিনি ব্যঙ্গ করে লিখেছিলেন, ‘অলি পাবের বিফ স্টেক যে খাসি ভেবে খেয়ে নেয়, তার খাসি না খাওয়াই ভালো।’
পরবর্তীতে ডিজাইনার অভিষেক রায়ের ফেসবুক পোস্টেও কড়া জবাব দিলেন নায়িকা। নিজের ডিজাইনার কালেকশনের মুখ হিসাবে সায়ককে বাছায় আফসোস জাহির করেন অভিষেক।
সেই পোস্টের মন্তব্যে সৌমিতৃষা লেখেন, ‘আরে হয় হয় মানুষ চিনতে ভুল হয়… আমি বুঝতে পারিনি। কনটেন্ট দিলে ডাউন টু আর্থ বন্ধু, না দিলে অহংকারী’।
একটা সময় সায়কের ভ্লগে নিয়মিত দেখা যেত সৌমিতৃষাকে। মিঠাই চলাকালীন অভিনেত্রীর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে, সেই সময়তেই দুজনের বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। এরপর আকারে ইঙ্গিতে সৌমিতৃষাকে অংহকারী বলে তকমা দিয়েছিলেন সায়ক। এবার পালটা দিলেন সৌমিতৃষা।


