
বাংলা চলচ্চিত্রের স্মৃতির পাতায় আজও এক উজ্জ্বল নক্ষত্র অভিনেতা মৃণাল মুখোপাধ্যায়। পজেটিভ থেকে নেগেটিভ ভিন্ন ধরণের চরিত্রে অভিনয় করে চলচ্চিত্র জগতে রেখে গেছেন ছাপ। ১৯৪৫ সালে জামশেদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোট থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র তবে টান ছিল অভিনয়ের প্রতি। মঞ্চ থেকে বড়পর্দার নিজের প্রতিভা দিয়ে নিজের নাম খোদাই করেছেন।
বিলম্বিত লয়’, ‘শঙ্খবেলা’, ‘আপনজন’ কিংবা ‘ছুটি’ মতো ছবিতে অভিনয় করে তুমুল সারা ফেলে দিয়েছিলেন অভিনয় জগতে। শুধু বাংলাতেই নয়, মুম্বাইতে হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায় ও গুলজারের মতো পরিচালকদের সাথে কাজ করেছেন। পেয়েছেন অগাধ ভালোবাসা এবং প্রশংসা। তবে অভিনেতা শেষ জীবন ছিল বড়ই কষ্টদায়ক।
দীর্ঘদিন ধরে মারণরোগ ক্যান্সারের সাথে তিনি লড়াই করেছে, জীবনের শেষ অধ্যায় আরও বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে যখন ক্যান্সারের পাশাপাশি জন্ডিস শরীরে বাসা বাঁধে। এক সঙ্গে এই দুই রোগ তার জীবন নরক বানিয়ে দেয়। সাথে ছিল একাধিক শারীরিক যন্ত্রণা। সবকিছুর সাথে প্রতিদিন টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যান।
২০১৯ সালের ৭ মে, জীবন যুদ্ধে হার মেনেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। কলকাতার এক নার্সিংহোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন অভিনেতা মৃণাল মুখোপাধ্যায়। বাবার মৃত্যু আজও মেনে নিতে পারেনি তার তিন সন্তান জোজো, টিনা আর দেবপ্রিয়। জোজোকে আজও নাড়িয়ে দেয় তার চলে যাও। ছোট থেকে বাবার কাছে রেওয়াজ শুনে বড় হয়েছেন। বাবার কাছে স্নেহের পাত্রী ছিলেন জোজো। বাবার মৃত্যু নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে প্রথমবার জোজো জানিয়েছিলেন, “বাবার রেওয়াজ আর অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা দেখেই আমার বড় হওয়া। তিনি শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না, ছিলেন আমার অনুপ্রেরণার মূল উৎস।”
বাবার দেওয়া শিক্ষার আর তার দেখানো পথেই আজও হেঁটে চলেছেন মেয়ে জোজো। অভিনেতা চলেও গেলে আজও বাঙালির হৃদয়ে তিনি রয়েছেন আর থেকে যাবেন আজীবন।
