‘মেয়েদের বয়স্ক বুড়ি বলে কটাক্ষ করছেন…’, সমালোচকদের যোগ্য জবাব অভিনেতা জিতু কমলের

অভিনেতা জিতু কমল

বর্তমানে বাংলা বিনোদন জগতের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা জিতু কমল। যাকে আপনারা নিয়মিত দেখতে পারছেন টিভির পর্দায়। আর্য সিংহ রায়ের চরিত্রের হাত ধরেই জিতু পাচ্ছেন অগণিত মানুষের ভালোবাসা। নিজের ভক্তদের তিনি ঈশ্বরের সমতুল্য মনে করেন। অনুরাগীদের তিনি ফ্যানস ফলোয়ার্সের তকমা দিতে নরাজ। কারণ তারা অভিনেতার কাছে ভালবাসার মানুষ। যেই মানুষগুলো জন্য আজ তিনি এই জায়গায় পৌঁছেছেন।

তবে দিনরাত যেই ভালোবাসার মানুষগুলো তার জন্য লড়ে যাচ্ছে তাদের শুনতে হচ্ছে কটাক্ষ, সমালোচকরা জিতুর ভালোবাসার মানুষদের দিকে কখনো অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করছে তো আবার কখনো বুড়ি তকমা দিচ্ছে।

গত ৮ ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন সেই সব সমালোচকদের অন্যায়ের বিপক্ষে উপযুক্ত জবাব দিলেন। ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করে জিতু লেখেন, “আমাকে যারা ভালবাসেন,যত্ন নেন, যারা গ্রহণ করেছেন নিজের বাড়ির সন্তান, ভাই, প্রেমিক হিসেবে।তারা বেশির ভাগই মহিলা। আজ নাকি তাদের উদযাপনের দিন। যদিও আমি একজন মানবতাবাদী। আমি নারীবাদী নই,আমি পুরুষবাদীও নই। আমি কোন তন্ত্রের পক্ষে নই। আমি কোন বিভাজনের পক্ষেও নই। মানুষের পক্ষে কথা বলতে পছন্দ করি।”

অভিনেতা আরও লেখেন, “হ্যাঁ,এটা আমার মানতে কোন দ্বিধা নেই যে, আমার পেশার জগতে আমাকে যারা হৃষ্টপুষ্ট করে রেখেছেন তাদের সিংহভাগই নারী এবং শিশু। পুরুষের সংখ্যা একটু কম,কারণ আমার জানা নেই। তবুও আমার ঈশ্বররা(ভক্তরা) সেই পুরুষদেরও সম্মান করেন,যারা প্রতিনিয়ত তাদের বুড়ি-বয়স্ক এই শব্দগুলো দ্বারা মনোবল ভেঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ভেবে দেখবেন আপনার মাও বয়স্ক হচ্ছেন, আপনার ঠাকুমাও বুড়ি হয়েছেন। আপনার বোনের হয়তো বয়স কম,কিন্তু তার চামড়ায় ভাজ পড়েছে বাড়িতে আপনার মত ভাইয়ের চিন্তায়। আর আপনি হরলিক্স চাটার মত এমনি এমনি চেটে চলেছেন। জানি হতাশা ঘিরে ধরেছে। সঠিক কর্মসংস্থান নেই, ঠিকমতো সংসার চালাতে পারছেন না,রাস্তায় বেরোলে কথা শুনতে হচ্ছে। সর্বোপরি আপনার প্রিয় হরলিক্স কেনার টাকাটুকু জোগাড় করা দায় হয়ে পড়ছে। আমি আপনাদের হরফ করে বলতে পারি , আপনি নিজের বোনের-দিদির বয়সী যে সকল মেয়েদের বয়স্ক বুড়ি বলে কটাক্ষ করছেন,তাদের কাছে একবার বলে দেখুন, আপনার খাদ্য সংস্থানের ব্যবস্থা, সংসার চালানোর ব্যবস্থাও তারা হাসি মুখে করে দেবে। তাই জন্যেই আমি এনাদের ভক্ত, এনারা আমার ভালোবাসার মানুষ। এনারা, প্রতি নিয়ত নিঃস্বার্থভাবে একজন অচেনা অজানা মানুষের নামে পুজো দেয়,প্রসাদ পাঠায়, তাকে গিফট পাঠায়, বই পাঠায় এবং যখন খানিক বিরহে থাকি তখন এনারা চিঠি লিখে আমার মনকে উজ্জীবিত করে তোলে যে আমাকে এগোতে হবে, আমাদের এগোতে হবে। তাই আলাদা করে নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি না। ৯০% পুরুষ , ১০% ভীতু,কাপুরুষ, বদ, ঘৃণ্য পুরুষের মতো দেখতে জাতির পক্ষ থেকেও আপনাদের সকলকে প্রণাম। (৯০% আর ১০% কিন্তু স্ত্রী জাতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য)।”