২০ বছরের দাম্পত্যে ইতি! “ছেলের জন্য এতদিন কিছু বলিনি…”, অবশেষে স্ত্রী শ্রেয়ার সঙ্গে ডিভোর্স নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা জয়জিৎ

জয়জিৎ-শ্রেয়া

টলি পাড়ায় একের পর এক ডিভোর্সের খবর। বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার স্ত্রী শ্রেয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবাহ বিচ্ছেদের গুঞ্জন। তবে এই বিষয় নিয়ে অভিনেতা বা তার স্ত্রী কোনও মন্তব্য করেননি এতদিন।

জয়জিৎ-শ্রেয়ার একমাত্র একমাত্র ছেলে যশজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা ভেবেই বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি তারকা দম্পতি। অবশেষে ডিভোর্স নিয়ে আজকাল ডট ইন এর কাছে মুখ খুললেন জয়জিৎ।

জয়জিৎ এর কথা অনুযায়ী ২০ বছরের বৈবাহিক সম্পর্কে নাকি ছেদ টেনেছেন জয়জিৎ এবং শ্রেয়া। আইনত বিচ্ছেদও হয়ে গিয়েছে তাদের। গত দু’বছর ধরেই পরস্পরের থেকে আলাদা থাকছিলেন তারা।

শ্রেয়ার সঙ্গে ডিভোর্স নিয়ে জয়জিৎ বললেন, “যে কোনও সম্পর্কে তিক্ত হয়ে গেলে অথবা সেই সম্পর্কে ক্রমাগত তিক্ততা বাড়তে থাকলে তা ছেড়ে বেরিয়ে আসাই সৎ সিদ্ধান্ত। আর আমরা দু’জনেই যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক তাই এই সিদ্ধান্ত দু’জন মিলেই নিয়েছি। আর একটা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, একে অপরের বিরুদ্ধে আমাদের কিন্তু কোনও অভিযোগ নেই, রাগ নেই। ”

তাদের ছেলে যশোজিৎ, তিনি এখন কার কাছে থাকবেন? জয়জিৎ স্পষ্ট জানান, “আইনত যশোজিৎ এখন প্রাপ্তবয়স্ক। সে নিজেই ঠিক করেছে আমার সঙ্গে ও থাকতে চায়। আরও ভাল করে বললে আমার ও আমার মা-বাবা অর্থাৎ ওর দাদু-ঠাম্মার কাছেই ও থাকতে চায়। আসলে, ছোট থেকেই ওঁদের কোলেপিঠেই তো বড় হয়েছে ও। আমি ও শ্রেয়া দু’জনেই কাজে বেরিয়ে যেতাম।”

জয়জিৎ-শ্রেয়া

“যশোজিতের দাদু-ঠাম্মাই ওকে বড় করেছে। তবে হ্যাঁ, ছেলে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বলেছি আমার প্রতি তোমার যা যা কর্তব্য তোমার মায়ের প্রতিও যেন সেই কর্তব্য সমানভাবে পালন করো। কারণ আজ তোমার বাবা-মা আলাদা হয়েছে বটে তবে তাতে তিনি যে তোমার মা, আজীবন এই সত্যিটা মুছে যাবে না। যশোজিৎ ওর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। নিয়মিত কথা হয় ওদের মধ্যে। সবাই তাদের মতো করে ভাল থাকুক। ব্যস!”

সবশেষে অভিনেতা বলেন, ‘যেহেতু এই খবর খুব একটা ভালো কোনও খবর নয় তাই আমরা নিজে থেকে এই খবরটি কাউকে জানাইনি। আমরা অনেক ভালো সময় কাটিয়েছি একসঙ্গে সেই স্মৃতি নিয়েই আগামী দিনে এগিয়ে যেতে চাই। সম্পর্কের মধ্যে তিক্ততা আসার আগেই সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাওয়া উচিত বলে আমাদের দুজনেরই মনে হয়েছে।

ছেলে যশজিৎ এখন একজন কলেজ স্টুডেন্ট। পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত সে। জয়জিৎ চান না তাদের দাম্পত্য কলহের কোনওরকম প্রভাব ছেলের ওপর পড়ুক।