কলেজ জীবন থেকে আলাপ দু’জনের। প্রথমে বন্ধুত্ব, তার পর প্রেম। সেখান থেকেই বিয়ে। দেখতে দেখতে অনেকগুলি বসন্ত পাড় করে ফেলেছেন অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী ও তার স্ত্রী শর্মিলি রায়চৌধুরী। পর্দায় বহু নায়িকার সঙ্গে জুটি বাঁধলেও অভিনেতার মন কেবল স্ত্রীর কাছেই।
দীর্ঘ ২৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের চলার পথে অভিনেতার পাশে থাকা মানুষটার ভূমিকা যেন চোখে পড়ার মত। সেকথা আগেও বহুবার স্বীকার করেছেন টোটা। এই সবকিছুর পিছনে ছিল শর্মিলি অনেক বড় আত্মত্যাগের গল্প। যা হয়ত অনেকেরই অজানা।
পড়াশুনা শেষ করে সেইসময় শর্মিলি নিজের মত করে পথ খুজছিলেন। মডেলিং করতেন, অভিনয় জগতে কাজ করার ইচ্ছেও ছিল, চেয়েছিলেন বড় অভিনেত্রী হতে। কিন্তু বিয়ের আগে টোটার স্পষ্ট কথায় উঠে এসেছিল বাস্তবতা, “সংসারের দায়িত্ব নিতে হবে, একদিকেই মন দিতে হবে।”
জীবনের সেই মোড়ে দাঁড়িয়ে সেই সময় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শর্মিলি। নিজের স্বপ্ন পূরণের চেয়ে সম্পর্ক আর সংসারকেই বেছে নেন শর্মিলি। এমনকি টোটার জীবনের খারাপ সময়গুলোতে তার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন শর্মিলি।
তবে সংসার সামলানো, মেয়ে মানুষ করার মধ্যেই থেমে থাকেননি শর্মিলি। সময়ের সঙ্গে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়েছেন। এখন তিনি পারিবারিক গয়নার ব্যবসার সাথে যুক্ত, সৃজনশীল কাজের মধ্যেই খুঁজে নিয়েছেন নিজের জায়গা। বিচ্ছেদের যুগে সম্পর্ক ধরে রাখতে শর্মিলির আত্মত্যাগের গল্প সত্যি প্রশংসনীয়।

